অনেকেই ধরতে পারেন না আমি ডান, বাম নাকি কংগ্রেস: সৃজিত মুখোপাধ্যায়

সৃজিত: ২৫ বছর বয়সে প্রথমবার ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ দেখি। এত কম বয়সে এই ‘উইঙ্কেল টুইঙ্কল’ কেউ দেখেছে মানে সে সামাজিক-রাজনৈতিক এবং পারিপার্শ্বিক ঘটনাবলি নিয়ে সচেতন। সেই সঙ্গে ইতিহাসেও আগ্রহ আছে। ফলে মনে যে রেখাপাত করার কথা, সেটাই ঘটেছে। পরিচালনার একেবারে শুরু থেকেই এই টেক্সটটা নিয়ে কাজ করার ভাবনা ছিলই। অবশেষে সেটা করে উঠতে পারলাম।

সৃজিত: ছবি যখন রিলিজ় করে, তার অনেক আগে থেকেই নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যায়। এই ছবির শুটিং হয়েছে শীতকালে। তার পরেও ছবি সেন্সরে আটকায়। কারণ আমি নাটক এবং চরিত্রদের নাম সিনেমাতেও এক রেখেছি। এখন ছাড়পত্র পেলাম তাই, রিলিজ় করছি। পুরোটাই কাকতালীয় একটা ব্যাপার।

সৃজিত: খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। তার কারণ হলো সিনেমার একটা নিজস্ব বাস্তবের দায় আছে। সেই দায়টা স্টেজের নেই। নাটক দেখা আর সিনেমা দেখার মধ্যেও একটা বিরাট ফারাক আছে। প্রেক্ষাপট কোন ঘরানার, সেটা সিনেমা তৈরির আগে ভাবতে হয়। সেই অনুয়ায়ী পুরোটা সাজাতে হয়। ক্যামেরার সামনে একটা বড় স্পেস থাকে। নানা চরিত্র, তাদের ডিটেলিং, চরিত্রগুলিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা বেশি কঠিন হয়ে যায় সিনেমার ক্ষেত্রে। সেই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছি। অনেক সিনেম্যাটিক এলিমেন্টস চলে এসেছে। নাটকের যে বাকমুখর অভিব্যক্তি, সেখান থেকে আমি কিছুটা সরে আসার চেষ্টা করেছি। বাকিটা মানুষ দেখে বলবেন। কেমন হয়েছে।

সৃজিত: আমার মনে হয় খুবই প্রাসঙ্গিক। ক্ষমতা এবং বিরোধিতার গল্প এটা নয়। এই গল্পে একটা ক্ষমতার বৃত্ত আছে। সেই বৃত্তে যে রাজনৈতিক দলই থাকুক, একটা সময় আস্তে আস্তে পচন ধরে এবং নতুন এক মতবাদ, নতুন কোনও পার্টি ক্ষমতাশীল হয়। এ ভাবেই পুরো প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এই বৃত্তটা নিয়েই গল্প। শুধু বাংলা বলে নয়, এটাই সব দেশে, সব সময়, সর্বকালে প্রাসঙ্গিক।

সৃজিত: এই ছবির ক্ষেত্রে বাবা-ছেলের দ্বৈরথ প্রকাশ পাচ্ছে রাজনীতির মাধ্যমে। এ ছাড়াও অনেক সামাজিক দিক আছে যেখানে এই দ্বৈরথ প্রকাশ পেতে দেখা যাবে। তাই শুধুই রাজনৈতিক ছবি সেটা বলা যাবে না। সম্পর্কের কিছু সমীকরণও আছে।

সৃজিত: ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় ক্ষমতার ভাষা মোটামুটি একই থাকে। খুব বদল কিছু আসে না। কিছু জায়গায় হয়তো ধরনটা খানিক বদলে যায়। কিন্তু মূল জায়গা তো একই থাকে। এই ছবিরও কিন্তু সেটাই বক্তব্য।

সৃজিত: আমার বিভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী বন্ধু রয়েছে। আমার বন্ধু বৃত্তের অনেককেই বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা যায়। আমি সচেতন ভাবেই কোথাও যাই না। কোনও দলের সঙ্গে মন থেকে একাত্ম হতে না পারলে, সেই মতাদর্শ গ্রহণ করতে পারি না। কলেজে পড়ার সময় থেকেই এটা আমার মনের মধ্যে গেঁথে গিয়েছে। কংগ্রেস হাইকম্যান্ড, পলিটব্যুরো হোক কিংবা বিজেপি হাইকম্যান্ড, আমি দেখেছি পার্টি লাইনের বাইরে কিছু মন্তব্য করলেই সেটা ঠিক চোখে দেখা হয় না। সেই জন্য ‘চন্দ্রবিন্দু’–র ভাষা ধার করে বলতে হয়, আমি আমার মন, ছোট্ট সংগঠন।

সৃজিত: না, কখনও তেমন দাবিও করিনি। তবে আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ সব সময়ে ইস্যুভিত্তিক। পার্টি লাইন ধরে বা পার্টি ম্যানিফেস্টো ধরে প্রকাশ পায় না।

সৃজিত: এটা নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। কারণ কে, কোথায় যাবে সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। আমি কারও ভাবনা বা সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি আমার ব্যক্তিগত মতামত জানাতে পারি। আমি সব বিষয়ে কথা বলি না। ইস্যুভিত্তিক বক্তব্য রাখি। সেই কারণে অনেকেই বুঝতে পারেন না আসলে আমি ডান, বাম না কংগ্রেস। অনেকের এআইডিএমকে-ও মনে হতে পারে।

সৃজিত: বহু রাজনৈতিক মহল থেকে প্রস্তাব এসেছে। ফোনেই না বলে দিয়েছি। কী কারণে প্রস্তাবে রাজি হতে পারলাম না, সেটাও জানিয়েছি। শুধু তাই নয়। নাম বলব না, তবে এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে বায়োপিক তৈরির অফারও এসেছে। পরে বুঝলাম ছবিটা দলের ম্যানিফেস্টো হিসাবে প্রজেক্ট করানো হবে। সব কিছু ভালো বলতে হবে। দোষ-গুণের বিচার করা যাবে না। প্রোপাগান্ডা ফিল্ম করতে খুব একটা আগ্রহ দেখাইনি।

সৃজিত: একদমই জরুরি নয়। রাজনীতির প্রভাব থেকে ইন্ডাস্ট্রি যত মুক্ত থাকবে, তত স্বাধীন,সুষ্ঠু, সুচারু ভাবে অপারেট করা সম্ভব হবে। নতুন সরকারের প্রতিনিধিরা বলেছেন টলিউডকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখবেন, সেটা যদি হয় খুব ভালো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *